Pages

Tuesday, February 5, 2013

হাঙ্গরের রাজা


হাঙ্গরের রাজা

———-
একদিন, হাঙ্গরদের রাজা তীরের কাছাকাছি জায়গার জলে
সুন্দর একটি বালিকাকে সাঁতার কাটতে দেখে। বালিকার সৌন্দর্যে
মুগ্ধ হয়ে একসময় তার প্রেমে পড়ে যায়। এই জন্য সে নিজেকে
একজন হ্যন্ডসাম মানুষে রুপান্তরিত করে; এবং পাখির পালকে খচিত একটি কোট পড়ে সুন্দর অবয়বে সজ্জিত হয়ে মেয়েটির পিছে পিছে তার গ্রামের বাড়ি গেলো। গ্রামবাসীরা বিদেশী একজন অপরিচিত রাজাকে দেখে কিছুটা ভয়ে বিহ্বল হয়ে উঠলো।
তারা তাঁকে পেয়ে গানবাজনার একটি আনন্দের উৎসবের ব্যবস্থা
করলো। এতে খেলাধুলা ও ভোজের আয়োজন করা হয়।
হাঙ্গর রাজা প্রত্যেকটি খেলাতেই অংশ গ্রহন করে বিজয়ী হলো।
বালিকাটি এসব দেখে আনন্দানুভব করলো। হাঙ্গর রাজা তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব করলো। তাতে বালিকা সম্মতি জ্ঞাপন করলে, যথা সময়ে তাদের বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। রাজা তার সুন্দরী নববধূকে নিয়ে গিয়ে ঝর্ণার নিকট একটি ঘর তৈরি করে মহানন্দে বসবাস শুরু করলো। মানুষ রূপে হাঙ্গর রাজা প্রতিদিনই ঝর্ণার নিচের জলাসয়ে সাঁতার কাটে। কখনো কখনো সে বালিকা বধূকে ভয় দেখানোর জন্য পানির নিচে
দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে; সে তার নববধূকে ভয় না পাওয়ার জন্য শান্তনা দিয়ে বলে যে, সে তাদের অনাগত সন্তানের জন্য জলের নিচে
একটি মনোরম ঘর তৈরি করছে। সন্তান জন্ম হওয়ার আগেই রাজা তার নিজের দেশে গমন করে।
যাওয়ার আগে সে তার বধূকে এই বলে শপথ করায় যে, সে যেন
তার রাজকীয় পাখির পালকে খচিত কোটটি তার অনাগত সন্তানের জন্য
যত্ন করে রাখে।যখন তাদের প্রথম সন্তান জন্ম হলো , মা লক্ষ্য করে দেখলো যে, তার বাচ্চার পিঠে এমন একটি দাগ আছে যা হাঙ্গর রাজার মুখমন্ডলের সাথে মিল আছে। এটা এজন্য ছিলো যে, সে যেন তার স্বামী “কে?” ছিলো এটা সহজেই বুঝতে পারে।
তাদের বাচ্চাটির নাম রাখলো-, “নানাভ”
নানাভ যখন বড় হচ্ছিলো, সে বাবার মতো দৈনিকই তাদের ঘরের কাছের জলাসয়ে সাঁতার কাটে। কখনো কখনো তার মা এক দৃষ্টিতে ঐ জলাসয়ের দিকে চেয়ে থাকে এবং দেখে যে, পানির নিচে একটি হাঙ্গর সাঁতার কাটছে। প্রতিদিন ভোরে নানাভ ঐ জলাসয়টির পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার গায়ে পালক খচিত একটি কোট থাকে; ঐ গাঁয়ের জেলেদের যারা মাছ ধরতে ঐ রাস্তা দিয়ে যায়, সে তাদের জিজ্ঞেস করে যে,
তারা কোথায় মাছ ধরতে যায়। বন্ধুসুলভ ভাবে জেলেরা কোথায় মাছ ধরবে এ কথা তাকে বলে দেয়। তখন বালকটি ঐ জলাসয়ে গিয়ে পানির নিচে ডুব দেয় আর দীর্ঘক্ষণ নিজেকে মানুষের দৃষ্টির আড়াল করে রাখে।জেলেরা লক্ষ্য করে দেখলো যে, দিনকি দিন তাদের মাছ ধরার পরিমান কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ঐ গ্রামের জেলেরা ক্রমান্বয়ে অভাবী হতে শুরু করলো।এতে তাদের খাবার যোগানো খুব কষ্ট হতে লাগলো। গ্রামের যিনি প্রধান, তিনি তাদের উপাসনালয়ে সবাইকে বললেন যে, “আমাদের মধ্যে একজন খারাপ দেব আছে, তিনি আমাদের জেলেদের মাছ ধরা থেকে বাধা প্রদান করছেন। তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য আমি আমার আধ্যাতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবো।”
গ্রামের প্রধান ব্যক্তিটি বৃক্ষের পাতা বিছিয়ে একটি গালিচার
মতো রাস্তা তৈরি করে গ্রামের সবাইকে বললেন যে, সবাই যেন এই পাতার উপর দিয়ে হেটে যায়। পাতার গায়ে মানুষের পায়ের কালশিটে দাগ পড়ে, কিন্তু কোন দেব হেটে গেলে তার পায়ের দাগ পড়ে না।
এ নিয়ে নানাভের মা ছিলো শঙ্কিত, কারণ তার মা জানতো যে, তার ছেলে নানাভ ছিলো দেবের সন্তান, এবং যদি তারা তাকে আবিষ্কার করতে পারে, গ্রামের মানুষ তাকে মেড়ে ফেলবে, । পাতা উপর দিয়ে যখন নানাভের হেটে যাওয়ার পালা এলো, সে দ্রুত দৌড় দিলো এবং আছাড় খেয়ে পড়ে গেলো।
এক জন মানুষ তার পালক খচিত কোটে ধরে ফেললো। যে কোটটি
নানাভা সর্বদা পড়তো যাতে কেউ তাকে আঘাত না করতে পারে। কিন্তু পালকের কোটটি তার কাঁধ থেকে খসে পড়ে গেলো। এতে করে সবাই তার পিঠে হাঙ্গরের মুখের অবয়বের ছবিটি দেখতে পেলো।গ্রামের লোকেরা নানাভকে চিনতে পেরে তাকে তাড়িয়ে গ্রাম থেকে বের করার জন্য তার পিছু ধাওয়া করে ছুটলো। কিন্তু সে গ্রামের মানুষদের থেকে দৌড়ে গিয়ে জলাসয়ে ডোব দিয়ে নিজেকে তাদের থেকে আড়াল করলো। গ্রামের মানুষেরা ঐ জলাসয়ে বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করতে লাগলো। এতে তাদের নিক্ষিপ্ত পাথরে জলাসয়টা ভরে গেলো। তারা সবাই চিন্তা করলো যে, নানাভ মরে গেছে।
কিন্তু তার মা চিন্তা করলো যে, তার বাবা পানির নিচে সন্তানের জন্য
একটি ঘর তৈরি করে রেখে গেছেন; যা থেকে একটি রাস্তা মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে। আর নানাভ হাঙ্গরের রূপ নিয়ে ঐ রাস্তা ধরে চলে গিয়ে তার বাবা “হাঙ্গরের রাজা”র নিকট গিয়ে সাঁতার কাটছে।
তখন থেকে জেলেরা কোথায় মাছ ধরতে যায়, তা কাউকে না বলে গোপন রাখে এই ভয়ে যে, হাঙ্গর আবার জেলেদের মাছ ধরা থেকে বাঁচাবার জন্য মাছদের তাড়িয়ে দেয়।
——
ন্যাটিভ আমেরিকান অনূদিত গল্প
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী

No comments:

Post a Comment

 

Sample text

Sample Text

Sample Text