Pages

Tuesday, February 5, 2013

অপু ও একটি আহত পাখি


অপু ও একটি আহত পাখি

dove-hands
একদিন বিকেলে, কালবৈশাখী ঝড় হলো। অপুদের বাড়িতে অনেকগুলো
আম গাছ। ঝড়ে গাছের নিচে ঝরা পাতা আর কাঁচা আমে একাকার হয়ে আছে। গাঁয়ের শিশু কিশোর সবাই আম কোড়ানো নিয়ে
ব্যস্ত।
ছোট ছোট গর্তে বৃষ্টির ঘোলা পানি জমে আছে। ঐসব পানি ভরা গর্তের কিনারে গেঁ-গোঁ গেঁ-গোঁ করে গাল ফুলিয়ে ছোট বড় ব্যাঙ ডাকছে। কি এক চমৎকার কলরব শোনা যাচ্ছে!
ঝড়ের পরে গা শির-শির করা শীতল বাতাসে অপু হাটছে আর এসব দেখছে। এসব দেখে সে খুব মজা পাচ্ছে। ওদের বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে হেটে যেতেই ওখানে গাছের নিচে ঝরে পড়া অনেক পাতার স্তুপের সাথে চুপ করে একটি ঘুঘু বসে আছে। পাখিটা দেখে সে কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেলো। কাছে গিয়ে ধরতে গেলো। না, এটা উড়াল দিচ্ছে না। এটার চোখ দু’টু এদিক ওদিক ঘোরাচ্ছে। অপু পাখিটাকে হাতে উঠালো। পাখিটার ছোট্ট শরীরটার কুসুম গরম তার হাতে অনুভূত হলো। ছোট্ট বুকটার ভিতর কি যেন একটা ধোক ধোক, ধোক ধোক করছে। ছোট্ট অপুর বুঝার বাকি রইলো না। এটা পাখিটার হৃদপিন্ড। ঝড়ে আহত হয়ে ভয়ে এটার হৃদপিন্ডটা এখন এভাবে ধোক ধোক করে কাঁপছে। এই অসহায় পাখিটার জন্য তার খুব মায়া হলো । সে এটাকে আলতো করে হাতের অঞ্জলিতে বসিয়ে বাড়ি নিয়ে এলো।
সে ভাবলো, এটা হয়তো বা তার সাথিটার জন্য কাঁদছে। সাথিটা কী
বেঁছে আছে, না মড়ে গেছে কে জানে! এখন আমাকে পাখিটাকে যত্ন করে
বাঁচাতে হবে। পাখিটাকে ফিস ফিস করে সে বললো-,তুই এভাবে বুক ধুক ধুক করে কাঁপছিস কেন! শোন! তোর কোন ভয় নেই। আমি আছি না!
আমি তোর বন্ধু। তোর কোন ক্ষতি হতে দেবো না। দেখিস, তুই ঠিকই এক সময় ভালো হয়ে যাবি। আবার পাখা ঝাপটিয়ে আগের মতো উড়াল দিতে পারবি। কক্ষনো তোকে আমি খাঁচায় বন্দি করে রাখবো না।
অপু দেখলো, বাতাসের ঝাপ্টায় পাখিটার ডানায় একটু রক্ত জমে আছে।
হয় তো বা এটার ব্যাথায় পাখিটা অস্থির। সে এটাকে একটি খাঁচায় পুড়ে
ঘরের এক কোনায় যত্ন করে রাখলো। একটি বাটিতে খাবার ও অন্য একটি বাটিতে
পানি ভরে খাঁচার ভিতরে দিলো।
পাখিটা খাচ্ছে না। আবার একটু পরে দেখলো; না, এবার একটু একটু ঠোকরিয়ে খাচ্ছে। অপুর মনে খুব ভালো লাগছে। এক দু’দিন এভাবে রাখার পর, দেখলো পাখিটা কেমন যেনো প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠছে। সে খাঁচার কাছে যায়, পাখিটা কেমন যেনো কৃতজ্ঞতা ভরে বন্ধুসুলভ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। এসব দেখে অপুর মন এখন আনন্দে ভরে উঠছে।
পাখিটা এখন সুস্থ হয়ে উঠছে। এটাকে খাঁচা থেকে বের করলো। দেখলো
এটা উড়াল দিয়ে যেতে পারে কী না। না, আর কোন ভয় নেই। এটা
এখন সম্পুর্ণ সুস্থ। পাখিটাকে ছেড়ে অপু বললো, যা বন্ধু! তুই এখন সুস্থ।
তোর কোন ভয় নেই। তুই এখন তোর সাথিকে গিয়ে খুঁজে বের কর।
পাখিটি আনন্দে পাখা ঝাপটিয়ে আকাশে উড়াল দিয়ে চলে যাচ্ছে।
অপুর এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাচ্ছে।
অপু পাখিটিকে ডেকে বললো-
এই শুন……, আমাকে ভুলে যাসনে যেন ………!
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী

  1. ডা. দাউদ : ১২-০৭-২০১২ | ২২:৪৬ |
    Delete
    অপুর মতোই এক জন বন্ধু আমাদের এই দেশের জন্য দরকার
    আহত পাখীর মত দেশ টা কাতরাচ্ছে
    দারুন গল্প
    এমনিই একিটি অধ্যাত্মিক গল্প আছে আরেক দিন শেয়ার করবো।

No comments:

Post a Comment

 

Sample text

Sample Text

Sample Text