অহংকারী লাল গোলাপ (শিশুতোষ গল্প)
——————————-
বসন্তের কোন এক সুন্দর দিনে বনে একটি লাল গোলাপ ফুটল।
অনেক প্রকারের গাছ-বৃক্ষ, লতা-পাতা সেখানে জন্মেছে। যখন
গোলাপটি চার দিকে দেখল, কাছেই একটি সরলবৃক্ষ (পাইন গাছ) বলল,
“বাহ! কী সুন্দর গোলাপ ফুল! আমি যদি এর মতো আকর্ষণীয়
সুন্দর হতে পারতাম!”
অন্য একটি গাছ বললো, “প্রিয় পাইন গাছ! এতো দুঃখ করিও
না, আমরা চাইলেই সবকিছু হতে পারি না।”
গোলাপ ফুলটি তার মাথা ঘূরিয়ে মন্তব্য করলো, ” মনে হচ্ছে
একমাত্র আমিই এই অরণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর।”
একটি সূর্্যমূখি ফুল তার হলুদ মাথা উঠিয়ে গোলাপকে বললো,
“কেন তুমি একথা বলছো? তুমি ছাড়াও এই বনে অনেক অনেক
সুন্দর গাছ আছে। তুমি শুধু তাদের মধ্যেই একটি।”
লালগোলাপ উত্তরে বললো, “আমি দেখছি, সবাই মুগ্ধদৃষ্টিতে শুধু
আমার দিকেই তাকাচ্ছে।” তার পর গোলাপ ফুলটি ফণীমনসা
গাছের দিকে তাকিয়ে বললো, “চেয়ে দেখ এই বিছরি গাছটি, তার
সারা গায়ে কাটায় ভরে আছে।”
একমাত্র আমিই এই অরণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর।”
একটি সূর্্যমূখি ফুল তার হলুদ মাথা উঠিয়ে গোলাপকে বললো,
“কেন তুমি একথা বলছো? তুমি ছাড়াও এই বনে অনেক অনেক
সুন্দর গাছ আছে। তুমি শুধু তাদের মধ্যেই একটি।”
লালগোলাপ উত্তরে বললো, “আমি দেখছি, সবাই মুগ্ধদৃষ্টিতে শুধু
আমার দিকেই তাকাচ্ছে।” তার পর গোলাপ ফুলটি ফণীমনসা
গাছের দিকে তাকিয়ে বললো, “চেয়ে দেখ এই বিছরি গাছটি, তার
সারা গায়ে কাটায় ভরে আছে।”
পাইন গাছ বললো, ” গোলাপ! এটা তুমি কেমন ধরনের কথা বলছ?
কে বললো তুমি এত সুন্দর! তোমার গায়েও তো কাঁটা আছে।”
কে বললো তুমি এত সুন্দর! তোমার গায়েও তো কাঁটা আছে।”
অহংকারী লাল গোলাপটি ক্রুদ্ধচোখে পাইন গাছের দিকে তাকিয়ে
বললো, “আমার মনে হয় সুন্দর কাকে বলে এসবের কিছুই তুমি
বুঝ না। তুমি তুলনা করতেই জান না আমার গায়ের কাঁটা আর
ফণীমনসার গায়ের কাঁটা এক হলো না কী?”"
বললো, “আমার মনে হয় সুন্দর কাকে বলে এসবের কিছুই তুমি
বুঝ না। তুমি তুলনা করতেই জান না আমার গায়ের কাঁটা আর
ফণীমনসার গায়ের কাঁটা এক হলো না কী?”"
“এ কেমন অহংকারী গোলাপরে বাবা!” পাইন গাছটি ভাবলো।
গোলাপটি চেষ্টা করলো যে, ফণীমনসা গাছ থেকে একটু সরে সে
যেন অন্য দিকে ঘুরে থাকতে পারে। কিন্তু এটা তার পক্ষে সম্ভব
হলো না। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, গোলাপটি ফণীমনসার দিকে
তাকিয়ে তাকে অপমানকর কথা বলছে। যেমনঃ “এই গাছটি কোন
কাজে আসে না! আমি তার প্রতিবেশী হওয়াতে খুব খারাপ অনুভব
করছি।”
গোলাপটি চেষ্টা করলো যে, ফণীমনসা গাছ থেকে একটু সরে সে
যেন অন্য দিকে ঘুরে থাকতে পারে। কিন্তু এটা তার পক্ষে সম্ভব
হলো না। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, গোলাপটি ফণীমনসার দিকে
তাকিয়ে তাকে অপমানকর কথা বলছে। যেমনঃ “এই গাছটি কোন
কাজে আসে না! আমি তার প্রতিবেশী হওয়াতে খুব খারাপ অনুভব
করছি।”
এতে ফণীমনসা গাছের মন কখনও খারাপ কেরেনি এবং গোলাপকে
এই বলে উপদেশ দিলো যে, “আল্লাহ কোন প্রয়োজন ছাড়া কোন গাছ
বা জীবনের সৃষ্টি করেননি।”
এই বলে উপদেশ দিলো যে, “আল্লাহ কোন প্রয়োজন ছাড়া কোন গাছ
বা জীবনের সৃষ্টি করেননি।”
বসন্তকালের শেষ, এবং আবহাওয়া খুব খারাপ হতে শুরু করল। বনে
জীবন ধারণ করা খুব কঠিন হতে শুরু করছে। যখন গাছ বৃক্ষ
এবং পশুপাখিদের পানির প্রয়োজন, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না। এতে সবারই
কষ্ট দিন দিন বাড়তে লাগলো। লালগোলাপটিও সুকিয়ে ঝুলে পড়তে
শুরু করছে। একদিন গোলাপ দেখলো যে, চড়ুই পাখি তার ঠোঁট ফণী-
মনসার গায়ে ডোবিয়ে কি যেন করলো তার পর খুশি মনে উড়ে চলে
গেলো। এটা কী করছে বুঝতে না পেরে লাল গোলাপ পাইন গাছকে
জিজ্ঞেস করলো যে, চড়ুই পাখি কী করতে ছিলো। পাইন গাছ তাকে
বললো যে, চড়ুই পাখি ফণীমনসা গাছ থেকে পানি পান করেছে।
“এটা কোন ব্যথা পায়নি যখন চড়ুইগুলো ফণীমনসার গায়ে গর্ত করছে?”
গোলাপ জিজ্ঞেস করলো।
জীবন ধারণ করা খুব কঠিন হতে শুরু করছে। যখন গাছ বৃক্ষ
এবং পশুপাখিদের পানির প্রয়োজন, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না। এতে সবারই
কষ্ট দিন দিন বাড়তে লাগলো। লালগোলাপটিও সুকিয়ে ঝুলে পড়তে
শুরু করছে। একদিন গোলাপ দেখলো যে, চড়ুই পাখি তার ঠোঁট ফণী-
মনসার গায়ে ডোবিয়ে কি যেন করলো তার পর খুশি মনে উড়ে চলে
গেলো। এটা কী করছে বুঝতে না পেরে লাল গোলাপ পাইন গাছকে
জিজ্ঞেস করলো যে, চড়ুই পাখি কী করতে ছিলো। পাইন গাছ তাকে
বললো যে, চড়ুই পাখি ফণীমনসা গাছ থেকে পানি পান করেছে।
“এটা কোন ব্যথা পায়নি যখন চড়ুইগুলো ফণীমনসার গায়ে গর্ত করছে?”
গোলাপ জিজ্ঞেস করলো।
“হ্যা, ব্যথা পেলেও ফণীমনসার মন খারাপ হয় কোন পাখি পিপাসায়
কষ্ট পেলে।” উত্তরে পাইন বলল।
কষ্ট পেলে।” উত্তরে পাইন বলল।
গোলাপ বিস্ময়ে চোখ খু্লে বললো, “ফণীমনসা গাছে কী পানি আছে?”
“হ্যা, তুমিও তা থেকে পানি পান করতে পার। তুমি ফণীমনসা গাছের
কাছে সাহায্য চাইলে তা থেকে চড়ুই তোমার কাছে পানি নিয়ে আসতে
পারে।”
কাছে সাহায্য চাইলে তা থেকে চড়ুই তোমার কাছে পানি নিয়ে আসতে
পারে।”
লাল গোলাপ তার অতীতের খারাপ ব্যবহার ও কথায় লজ্জায় পড়ে গেলো,
কীভাবে সে এখন ফণীমনসা গাছের কাছে পানির কথা বলবে? অবশেষে
সে ফণীমনসার কাছে পানির জন্য সাহায্য প্রার্থনা জানালো। ফণীমনসা সদয়
হয়ে পানি দিতে রাজি হলো। চড়ুই তার ঠোঁট পানিতে পূর্ণ করে গোলাপের
মূলে পানি পৌঁছে দিলো। এভাবে তা থেকে গোলাপ একটি সুশিক্ষা অর্জন
করলো এবং শুধু কারো বাইরের চেহারা দেখে অন্ধভাবে বিচার করা থেকে
বিরত থাকলো।
কীভাবে সে এখন ফণীমনসা গাছের কাছে পানির কথা বলবে? অবশেষে
সে ফণীমনসার কাছে পানির জন্য সাহায্য প্রার্থনা জানালো। ফণীমনসা সদয়
হয়ে পানি দিতে রাজি হলো। চড়ুই তার ঠোঁট পানিতে পূর্ণ করে গোলাপের
মূলে পানি পৌঁছে দিলো। এভাবে তা থেকে গোলাপ একটি সুশিক্ষা অর্জন
করলো এবং শুধু কারো বাইরের চেহারা দেখে অন্ধভাবে বিচার করা থেকে
বিরত থাকলো।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।


শুভকামনা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
কে বললো তুমি এত সুন্দর! তোমার গায়েও তো কাঁটা আছে।”
বললো, “আমার মনে হয় সুন্দর কাকে বলে এসবের কিছুই তুমি
বুঝ না। তুমি তুলনা করতেই জান না আমার গায়ের কাঁটা আর
ফণীমনসার গায়ের কাঁটা এক হলো না কী?””
সুন্দর সব উপমা উদাহরন
সুন্দর কাব্য
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
অনেক অনেক ভালো থাকুন এই প্রত্যাশা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভেচ্ছা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভকামনা অবিরাম।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভকামনা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের অনুমতি দিন
শুভকামনা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
নিজের সৃষ্টি সন্তান তুল্য। তাই তাকে যেখানে সেখানে ফেলে রাখতে নেই। শুণ্যঘরে পোকা মাকর আর সাপ থাকে।
শুভ কামনা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভেচ্ছা জানবেন।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
সুন্দর গল্পের জন্য ধন্যবাদ।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভকামনা সতত।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
সুন্দর হয়েছে । আরও হোক ।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভকামনা।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন