Pages

Tuesday, February 5, 2013

একজন অপহরণকারিণীর মা হওয়ার সাধ এবং তার আত্মহত্যা


একজন অপহরণকারিণীর মা হওয়ার সাধ এবং তার আত্মহত্যা

অন্বেষা। যখন তার বয়স চার কি পাঁচ, তার মা তাকে নিয়ে শহরের এক পার্কে সময় কাটাতে যান প্রতিদিন বিকেলে। মার কোলে ছোট্ট একটি বোনও আছে তার। সে একটি বল নিয়ে পার্কে খেলা করছে। ওদের একটি কুকুর আছে। ওটাও তার সাথে খেলা করছে। তার বলটা যখন ড্রপ খেয়ে গড়িয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে শুরু করে, কুকুরটি দৌড়ে গিয়ে বলটিকে আগলে ধরে নিয়ে আসে। তার মা ছোট্ট বোনটিকে কোলে নিয়ে পার্কের মাঝা মাঝি অবস্থানে একটি পাকা বেঞ্চে বসে অপর এক মহিলার সাথে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। কুকুরকে সাথে নিয়ে অন্বেষা বল খেলছে। হঠাত সে বলের কথা ভুলে গিয়ে সিড়িবেয়ে উপরে উঠে স্টিলের ঢালো খেলনায় বসে নিচের দিকে স্লিপ করছে। যখন সে স্লিপারের নিম্ন প্রান্তে এসে থামলো, এমনিই চটকরে এক শিশু অপহরণকারী মহিলা পার্কের পাশে গাড়ির দরজা খোলা রেখে এসে অন্বেষাকে দু’হাতে পাতাল কোলে তুলে নিয়ে ঝটপট গাড়িতে গিয়ে বসে। তা দেখে অন্বেষার মা চিৎকার করে এগিয়ে আসতে আসতেই ঐ গাড়িটি এখান থেকে দ্রুত চলে গিয়ে এক সময় হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। যদিও ঐ অপহরণকারী মহিলা অন্বেষাকে আপন মায়ের মতোই লালন পালন করছে; অন্বেষা মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভাব বোধও অনুভব করছে না। তবও নিজ বাড়ি ও আপন মা’য়ের স্মৃতি মন থেকে
আজও মুছে যায় নি তার।
সে যখন রাতে ঘুমায়, এখনও দুঃস্বপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়ায়। নিদ্রাকালে ছটফট করতে থাকে এই বালক। সারাক্ষণ সে তার আপন মা, নিজ বাড়ি, বাড়ির আসেপাশের রাস্তা, পরিবেশ তার কল্পনায় ভাসতে থাকে।
একদিন সে ঘুম থেকে উঠে একা একা তাদের নিজ বাড়ির রাস্তা আবিস্কার করে। আপন বাড়ি এসে হাজির হয়ে যায়। ঘরের গ্লাস লাগানো দরজায় ঠক ঠক করে আওয়াজ করলো। তার মা দরজা খুলে তার দিকে
তাকায়। আট কি নয় বছরের একটি শিশুকে দেখতে পেয়ে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। চিনতে পারেনি তাকে। তার দিকে চেয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো কী হয়েছে তার। সে তার মা’য়ের চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বল্ল ‘মা’!
মা তাকে দেখে শুরুতে বুঝতেই পারে নি যে, এই সেই হারিয়ে যাওয়া অন্বেষা; চট করে “অহ মাই গড এটা তো আমার হারিয়ে যাওয়া
বাচ্চা” বলে তাকে দু’হাতে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ঘুরে দাড়ায়। তার পিছন দিক এখন দরজার বাহিরের দিকে। বাচ্চাকে ফিরে পেয়ে এখন আত্মহারা তার মা।
অজানতেই তার মা’য়ের চোখের কোন ভিজে উঠলো। চার কি পাঁচ বছর পর চুরি হয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়ে গলায় জড়িয়ে এক আনন্দ ঘন মুহূর্ত তৈরি হল। এমন সময় ঐ অপহরণকারী মহিলা তার মা’য়ের পিছন দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালালো। তার হাতের ডানায় গুলি লাগে। হঠাত আহ করে বাচ্চাকে ছেড়ে আহতাবস্থায় মাটিতে ঢলে পড়লো।
ঐ মহিলা কটমট করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে অন্বেষার জামায় শক্ত করে ধরে সজুরে ঝাকি দিয়ে বলে, তুই কেন এসেছিস এখানে! বাচ্চাটিকে ভয় দেখিয়ে সাথে নিয়ে যেতে রাজি করিয়ে বললো, “চল আমরা চলে যাই।”
বাচ্চা বললো, “চলো।”
ওকে নিয়ে চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার মা উঠে পুলিসকে ফুন দিয়ে বললো যে তার হারিয়ে যাওয়া বাচ্চা বাড়িতে ফিরে আসার পর তাকে আবার ঐ অপহরণকারী মহিলা জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এই আহতাবস্থায়ই অপহরণকারি মহিলার পিছু পিছু ছোটলো। সাথে সাথেই পুলিসের গাড়ি ঠিকানা মতো এসে, পিউ পিউ সাইরেন বাজিয়ে ঐ মহিলাকে ধাওয়া করলো। ঐ মহিলা টের পেয়ে তাকে নিয়ে
এক লোহার তৈরি রিং সিড়ি বেয়ে ছয় তলা পর্যন্ত উপরে উঠে গেলো।
তাকে নিয়ে ঐ মহিলা ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বিড়বিড় করে কী সব বলেছে। পিছে পিছে তার মা’ও সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে গিয়ে কান্না জড়িত অবস্থায় তাকে মিনতি করে বলে যে, সে যেন তার বাচ্চার কোন প্রকার ক্ষতি না করে তাকে ফিরিয়ে দেয়। ঠিক এই সময় অন্বেষা ঐ মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“তুমি একজন ভালো মা ঠিকই, কিন্তু তুমি তো আর আমার আপন মা নও।”
এই কথা শুনে ঐ মহিলা খুব ব্যথিত হলো। তাকে ঠিক ওইখানে দাড় করিয়ে রেখে, আত্ম হত্যার উদ্দেশ্যে ছয় তলা শিড়ির উপর থেকে নিচের দিকে লাফ দিলো। এভাবে ঐ অপহরণকারি মহিলার জীবন অবসান ঘটে। আর অন্বেষাও এভাবে আবার তার মায়ের কোলে ফিরে এলো।
——
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৯ টি মন্তব্য (লেখকের ৪টি) | ৫ জন মন্তব্যকারী

  1. ফকির আবদুল মালেক : ০৯-০৭-২০১২ | ১২:৩৩ |
    Delete
    গল্পের প্লটটা ভাল ছিল। কিন্তু গল্প লেখায় ঘাটতির কারনে এই বারের মতো তেমন পূর্ণ গল্প হয়ে উঠল না।
    আশা করি সামনের দিকে ভাল কোন গল্প পাব আপনার কাছ থেকে। আসলে গল্প লিখতে গেলে পড়ার কোন বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠিত গল্পকারদের গল্প পড়ুন, তাদের প্রকাশ ভঙ্গি অনুসরন করুন।
    গল্প লিখতে লিখতে পরিপূর্ণ গল্পকার হওয়ার মত অবস্থান তৈরি করুন , এই কামনা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনার দক্ষতা আছে।
    শুভ কামনা সব সময়।
  2. নাজমুল হুদা : ০৮-১১-২০১২ | ৮:৩২ |
    Delete
    ফকির আবদুল মালেক ভাইয়ের পরামর্শের সাথে একমত।
    গতি কম হলে ভালো হতো। দ্রুত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক তাড়াহুড়া করা হয়েছে। ভাষা শৈলী আর বানানের দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
    শুভ কামনা ভাই সেতুবন্ধন।

No comments:

Post a Comment

 

Sample text

Sample Text

Sample Text