Pages

Labels

Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

Tuesday, February 5, 2013

অহংকারের পরিণাম


অহংকারের পরিণাম

[ভূমিকাঃ এটা সবাই জানে যে, মুক্তা তৈরি হয় ঝিনুকের খোসার ভিতর যারা বাস করে মাহাসাগরের তলদেশে। এই ঝিনুকটি নিজেকে বিশ্বের মূল্যবান প্রাণী মনে করে অতি অহংকার বোধ করতো। গল্পটা এমনই একটা অহংকারী ঝিনুকের গল্প।তার এই অহংকার বোধই তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।]
kak The Price of Pride
একদিন, মহাসাগরে ভয়ংকর ঝড় উঠলো। সাগরের তরঙ্গ অতি উঁচু আর বিপদজক হলো। এই প্রতিকূল অবস্থা এতোটাই ভয়ানক হল যে, ঝিনুকের দুর্বল ঢাকনা আটকে গেলো, এবং শক্ত ভাবে সমুদ্রতল দেশে চেপে বসে থাকলো। সে ভাবলো তীরে উঠে গিয়ে তার মূল্যবান মুক্তা রক্ষা করা জরুরী। সে সাহস করে উঠে এলো উপরে। ঢেউ এতোই শক্তিশালী ছিলো যে, তাকে তীরে নিয়ে প্রচন্ড বেগে ছুড়ে ফেলে দিলো। নিজেকে খোলামেলা তীরে পেয়ে খুব সতর্কতার সাথে তার খোসা একটু ফাক করে ভেতর থেকে পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি দিলো। একই ভাবে সে দেখছিল যে, অন্য কোন বড় ঢেউ এসে তাকে আবার বালুর স্তূপে ছুড়ে ফেলে দেয় কী না। এখন এটা সত্যি সত্যিই বিপদসংকেত। ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ এসে তাকে ভিজিয়ে দিচ্ছে আর বলের মতো গড়িয়ে নিচ্ছে এদিক থেকে ওদিকে। তবে এসব ঢেউএর প্রচন্ডতা এতো বেশি না যে, তাকে আবার সাগরে ভাসিয়ে নিতে পারে। এখন সাগরে আর ঝড় নেই। তার নিজেকে এখন আর এই বালুর তীরে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। অবশেষে এই অসহায় ঝিনুকটি সেখানেই পড়ে থাকলো। আর কোন রাস্তা ছিলো না যে, সে আবার সাগরের মাঝে ফিরে যেতে পারে, তাই সে খুব ক্রুদ্ধ হলো এই প্রতিকূল অবস্থার উপর।
তীরের নিকটে একটা বৃক্ষ ছিলো। একটা কাক ওই বৃক্ষে দীর্ঘক্ষণ বসা ছিলো; এবং ঝিনুকটির দুরবস্থা দেখছিলো। অবশেষে সে উড়ে গিয়ে নিচে ঝিনুকের পাশে বসলো। কাক তার ঠোঁট দিয়ে ঝিনুকের ঢাকনায় আঘাত করলো।
“ “কে ভীতরে? দরজাটি খোল,”” সে তাকে তীক্ষ্ণ ভাবে জিজ্ঞেস করলো।
ঝিনুকটি অসন্তুষ্ট হলো। একটি ইতর, বদমাশ আমাকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করছে- সে নিজে নিজে বললো, তারপর চীৎকার করে বললো,” “এটা কে?””
“ “আমি কোন বদমাশ না। আমি একটি সুচতুর কাক। দরজাটি খোল এবং বাইরে বেরিয়ে এসো।””
” “কেন আমাকে বেরিয়ে আসা উচিৎ?””
“”শুধু কিছু একটা আলাপচারিতা করার জন্য; আর কিছু না”,” কাকটি ভদ্রভাবে বললো।
“ “আমার কোন সময় নাই কথা বালার মতো- এবং আমি বেরিয়ে আসছি না।””
” “ভালো কথা, তার পর ঠিক আছে, কিন্তু তুমি ভিতরে কী করছো?””
“ “আমি মুক্তা তৈরি করতে ব্যস্ত। যাই হোক না কেন, তোমার মতো একটা নোংরা, কদর্য কাকের সাথে কথা বলে কেন আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে?””
কাকটি হাসলোঃ- “”অহ-কেমন উতকৃষ্ট আমার বন্ধু, আমি তোমাকে মহাসগরের আকার আকৃতি জানতে চেয়ে কিছু প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম এবং পৃথিবীর প্রশস্ততা সম্পর্কে তোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম।””

“কেন বলো তো?””
“ “কারণ আমি বিজ্ঞান সম্পর্কে খুবই আগ্রহ বোধ করি। আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসবাস করি এবং আমি বিজ্ঞানের অধ্যক্ষের বিজ্ঞান সম্পর্কিত সকল আলোচনা শুনি, সুতরাং বিজ্ঞান আমার কাছে খুব প্রিয় হয়ে গেছে। এই জন্যই আমি তোমার কাছে মহাসগর সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম এবং সেখানে কী ঘটছে তাও জানতে চাই। তুমি কী চরুই পাখি ও ঘুঘুর
ডিম সেখানে দখতে পাও?””
স্বল্পভাষী ঝিনুকটি বললোঃ- “”কী বাজেরে বাবা! যেন মহাসাগরে ঘুঘু আর চড়ুই পাখি বাস করে!”
“” “কিন্তু এগুলোই তোমার কাছ থেকে আমি জানতে চেয়েছি।””
ঝিনুকটি বললো-” “এরকম অর্থহীন প্রশ্ন আমাকে আর জিজ্ঞেস করো না, মহাসাগরে আমার মতো অসংখ্য ঝিনুক আছে; কিন্তু সবার মধ্যে আমি হলাম সবচেয়ে মূল্যবান, সুতরাং আমি অন্য কোন ঝিনুকের সাথে কথা বলি না। সেখানে হাজারো রকমের রঙ্গিন মাছ আছে, এবং হাজারো রকমের উদ্ভিদ, কিন্তু সেখানে শুধু তোমার মতো বাজে, নির্বোধ ও কদর্য কোন প্রাণী নেই।””
কাকটি হাসলো,” “আমি কোন খারাপ কিছু মনে করি নি, আমাকে যে তুমি নির্বোধ, বাজে কদর্য বলে বকা দিচ্ছ, কিন্তু আমি প্রকৃতপক্ষে বোকা নই, যেভাবে তুমি আমাকে ভাবছো। আমি একটি কাকা-এবং একটি অতি চতুর কাকও বটে। কিন্তু বৃদ্ধ দোস্ত! তুমি আমাকে যা কিছু বলছো, এই ছোট্ট গুহা থেকে কেন বলছো। কেন তুমি ভিতর থেকে বেরিয়ে এসো না?””
““তোমার কোন সামাজিক আচরণ জানা নেই? কত বড় সাহস তুমি বন্ধু হতে চাও! আমি কোন তোমার দোস্ত নই।””
“ “ভালো, তুমি কী মহাসাগরের রাজা হয়ে কথা বলছো!””
“অবশ্যই- আমি হলাম যারা মুক্তা তৈরি করে তাদের একজন, যা সাগরকে বিখ্যাত করে। এসব কিছু আমার কারণেই হয়,” ঝিনুকটি বললো।”
উৎকট চাপা হাসি দিয়ে কাকটি বললো- “খোসার মধ্যে, আমি অবশ্যই সাধারণ ভাবে তোমার দিকে তাকাচ্ছি। কারণ আমি আর কখনও এরকম এক আশ্চর্য জিনিস দিখি নি।””
“ “আমি কোন সাধারণ জিনিস নই, আমি একটি ঝিনুক, যে মুক্তার মতো অতি মূল্যবান জিনিস তৈরি করে।””
““ঠিক আছে, ঠিক আছে, তোমার মর্যাদা, কিন্তু দয়া করে তুমি কী বাইরে বেরিয়ে আসতে পারো না? এবং তোমাকে দেখার জন্য আমাকে একটা সুযোগ দেয়া যায় না?”” কাকটি তামাসা করে বললো।
“ “না, না, না, আমি দরজা খুলতে পারবো না। আমি খুব ব্যস্ত।””
“তুমি তো পরেও তোমার মুক্তা তৈরি করতে পারো, শুধমাত্র একবার দরজাটা খোলো- আমি একটা অতি সাধারণ গরীব কাক, যে তোমার মতো একজন গুরুত্ব পূর্ণ ব্যক্তিকে দেখতে চায়- যে
কী না মুক্তা তৈরি করতে পারে। আমি মুক্তাও দেখতে চাই। শুনো ঝিনুক! আমার জীবনে আগে কখনো মুক্তা দেখি নি।””
“ “আমি সবেমাত্র তোমাকে বলে দিলাম যে দরজা আমি খুলতে পারবো না। এবং তুমি যদি নিজেকে এতোটাই চালাক মনে করো, তবে তুমি নিজে কেন দরজাটি খুলতে পারো না?””
ঝিনুকটি এভাবে তাকে উপহাস করতে পারে, কারণ এটা সে নিশ্চিত ছিলো যে, কাকটি কখনও ঝিনুকের খোসার দরজাটি খুলতে সক্ষম হবে না।
কিন্তু কাকটি এখন রাগান্বিত হলো।
সে বললো, “”ঠিক আছে, তুমি যা বলছো, তা যদি ঠিক হয়, আমি তোমাকে দেখিয়ে দেব, এবং যা কিছু ঘটবে তা যদি তোমার অপছন্দ হয়, তাহলে আমাকে যেন দোষারোপ না করো।””
কাকটি তার ঠোটে ঝিনুকটিকে আঁকড়ে
ধরে অনেক উঁচুতে উড়ে গেলো। অবশেষে অনেক উপরে গিয়ে বিশাল উচ্চতা থেকে সে ঝিনুকটিকে একটি শিলা বরাবর নিচের দিকে ছেড়ে দিলো। ঝিনুকের খোসাটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো। কাকটি নিচে গিয়ে এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। সে ঝিনুকটিকে তার ঠোঁট দিয়ে আকড়ে ধরলো; আর একই ঢোকে তা গিলে ফেললো।কাকটি যখন দেখলো, মুক্তাটি গড়িয়ে তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন অতি মূল্যবান মুক্তাটি ঠোঁট দিয়ে আঁকড়ে ধড়ে খুশি মনে কা কা ধ্বনি করে উড়ে গেলো।
অতি অহংকারী ঝিনুকের এভাবেই শেষ পরিণতি হলো।
—––
অনূদিত গল্প
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী


তারা'র জন্মদিন

মহাসগরের নিচে একটি দেশ আছে। সেই দেশের নাম হলো “নীল জলের দ্বীপ।” যেখানে হাঙ্গর নামক রাজা রাজত্ব করে। তো এই নীল জলের দ্বীপে হাঙ্গর রাজার অত্যাচারে অন্যান্য মাছেরা কথা বলতেও ভয়ে অতংকিত হয়ে থাকে। কারণ কেউ যদি সেই দেশের রাজা হাঙ্গরের বিরুদ্ধে কিছু বলে, তাহলেই হইছে। তাকে জীবন দিতে হয়।সেই দেশের রাজা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দেয়।
যদি অন্য কোন মাছ ওদের সাথে টাক্কর দিয়ে দেশ পরিচালনায় অংশ নিতে চায়, তবে তাকে জীবন দিয়ে তার ভুলের মাশুল আদায় করতে হয়।
আজ একটি ছোট্ট মাছের দুঃখের কাহিনী বলবো। ধরা যাক ছোট্ট মাছটির নাম “তারামাছ”। মহাসাগরের এই তারা মাছটি তার জীবন পথে দশ বছরে পা রাখলো। তো এই তারা মাছের জন্ম দিন ছিলো ৫ আষাঢ়। তার মনে ভীষণ দুঃখ; তার এই ১০ম জন্মদিনে বাবা কাছে নেই। কয়েক মাস আগে ঐ দেশের রাজা তারার বাবাকে ওদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। সেই থেকে তারা তার প্রিয় বাবাকে আর দেখছে না। বাবার জন্য মন তার খুব কাঁদে। সে ছোট্ট মাছ, তার দুঃখ কেউ বুঝে না। সে জানে না যে, তার বাবা এখনো বেঁচে আছেন কী না। সে এখনও রাতে যখন ঘুমুতে যায়, ঘরের বাইরে কোন শব্দ হলে কান খাড়া করে বাবার আগমনের শব্দ শুনার চেষ্টা করে। কিন্তু না, তার বাবা আর আসছেন না। তার বাবা ফিরে আসার প্রতীক্ষা যেন আজ স্বপ্ন হয়ে গেছে, তা আর বাস্তব হবে কী না সে জানে না। তাই সে সেই নীল জলের দ্বীপের রাজার কাছে একটি চিঠি লিখলো।
তারা লিখেছে,
” ৫ আষাঢ় আমার জন্মদিন। আমাকে একটি উপহার দিতে হবে আপনার, তা হলো আমার বাবা। আমি বাবাকে জন্মদিনের আগে চাই। প্রতি বছর তিনি জন্মদিনে আমাকে অনেক উপহার দেন।”
ঐ দেশের কিছু মাছ যারা সংবাদ পরিবেশন করেন তারা তার জন্মদিন উপলক্ষে তারাদের বাড়ি গেলো। সেই মাছ সাংবাদিকরা তারাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলে তারা তখন বিষন্ন মনে নিশ্চুপ বসে থাকে।
——-
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৬ টি মন্তব্য (লেখকের ৩টি) | ৩ জন মন্তব্যকারী

  1. এস. এম. কামরুল আহসান : ১৯-০৬-২০১২ | ১৬:২৮ |
    Delete
    এই গুম, হত্যা আর রাহাজানির সমাজে তারা মাছের মত আমাদের সমাজের মানুষরুপি শত তারারাও অপেক্ষায় আছে তাদের প্রিয় জনের ফিরার অপেক্ষায়!
    আপনার সুন্দর লেখার পটভূমিতে অনেক কিছু শিখার আছে। দারুণ ভাবে সাজিয়েছেন। শুভেচ্ছা নিরন্তর।
  2. নাজমুল হুদা : ১৯-০৬-২০১২ | ২০:০৩ |
    Delete
    হাঙ্গরদের কে রুখবে? আমরা বাস করছি সেই আদ্যিকালে ‘জোর যার মুল্লুক তার’! যার শক্তি আছে, তাল গাছের মালিক সেই-ই, সে যে কোন বিচারেই হোক, বা সালিশেই হোক!!

মনিবকে বাঁচাও (শিশুতোষ গল্প)


মনিবকে বাঁচাও (শিশুতোষ গল্প)

chimpu1
অপু’র লাল রঙ্গের, গুলাকার বড় একটি বেলুন আছে। তার একটি ছোট্ট কুকুরও আছে। এর নাম চুটকু। চুটকু অপু’কে খুব পছন্দ করে।
chutku
চুটকু অপু’র সাথে খেলতেও পছন্দ করে। অপুদের বাড়িতে বড় কালো একটি বিড়াল আছে।
cat
চুটকু বিড়ালটিকে একদুম পছন্দ করে না। ওদের বাড়িতে ছোট্ট একটি বাদামি রঙ্গের ইদুরও আছে। বড় কালো বিড়ালটি ইদুরটিকে পছন্দ করে না।
অপু যেমন কুকুর বিড়াল ও ইদুরকে পছন্দ করে, তেমনই কুকুর, বিড়াল
ও ইদুরও অপু’কে পছন্দ করে।
অপু তার বড় লাল গোলাকার বেলুনটিকে মাঠে নিয়ে গেলো। চুটকু, কালো বিড়াল ও ইদুর এরা সবাই তার সাথে মাঠে গেলো।
অপু কী করছে? সে তার বেলুনটি গ্যাস ভরে উড়াচ্ছে। একটি প্রজাপতি বেলুনের উপর বসে আছে।
Aponahmed.com 28-1
বেলুনটি আকাশে উড়ে হাওয়ায় ভাসছে।
অপু বেলুনের নাটাইটি খুব শক্ত করে ধরছে। প্রচন্ড হাওয়া বইছে।বড় লাল গোল বেলুনটিকে শক্তিশালী হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অপু’র হাতে ধরে রাখা বে্লুনের নাটাইটি হাওয়া হেঁচকা টান দিলো।
বেলুন নাটাই সহ অপু’কে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে উপরের দিকে।
অপু তীব্রস্বরে চিৎকার দিয়ে বললো, “সাহায্য করো” “সাহায্য করো!”
“বাউ ওয়াঊ” চুটকু (কুকুর) ডাকছে। ” আমি তোমাকে রক্ষা করবো!”
চুটকু অপু’র পায়ে শক্ত করে ধরলো। কিন্তু প্রচন্ড শক্তিতে বাতাস
বেলুনকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বড় বেলুনটি অপু’কে হেঁচকা টান দিচ্ছে। “সাহায্য করো! সাহায্য করো!” তীব্রস্বরে চিৎকার করছে অপু।
“বাউ ওয়াঊ!” চুটকু প্রচন্ড শক্তিতে ডাকছে, “আমি তোমাকে রক্ষা করবো।” চুটকু অপু’কে শক্ত করে ধরছে।
“মিউ! মিউ!” বিড়াল ডাকছে। “আমি তোমাকে রক্ষা করবো!” বিড়াল চুটকুকে শক্তকরে ধরেছে!
কিন্তু বাতাস খুব শক্তিশালী। বাতাস অপু’কে সহ বেলুনকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
“সাহায্য করো!” চিৎকার করছে অপু।
“বাউ ওয়াউ” চুটকু ডাকছে।
“মিউ! মিউ!” বিড়াল ডাকছে।
“আমি তোমাকে সাহায্য করব!” ক্যাঁচক্যাঁচ করে ইদুর বললো।
ইদুর বিড়ালকে শক্ত করে ধরেছে।
কিন্তু বাতাস এখনও প্রচন্ড শক্তিতে টানছে!
“সাহায্য করো!” চিৎকার করছে অপু।
বাদামী রঙ্গের পিচ্ছিল পোকা মাটির গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো।
“আমি তোমাকে সাহায্য করবো!” এই বলে মাটির পোকা ইদুরকে শক্ত করে ধরলো।
chimpur belun
দুই.
কিন্তু বাতাস অনেক প্রচন্ড বেগে বইছে! বাতাস লাল বড় বেলুনকে টানছে! আর বেলুন টানছে অপু’কে! অপু টানছে চুটকুকে! চুটকু টানছে বিড়ালকে! বিড়াল টানছে ইদুরকে! ইদুর টানছে মাটির পোকাকে!
“সাহায্য করো!” চিৎকার করে অপু ডাকছে!
“আমি তোমাদের সবাইকে সাহায্য করবো!” ছোট্ট পিপিলিকা বললো।
মাটির পোকাকে সে ধরলো। কিন্তু বাতাস খুব প্রচন্ড বেগে বইছে!
নীল আকাশে কাক উড়ছে। কাক প্রজাপতিকে দেখলো,
“আমার জন্য একটি সুন্দর দুপুরের খাবার!” কা কা ধ্বনি করে কাক বললো।
কিন্ত প্রজাপতি খুব চালাক! সে উড়ে দূরে চলে গেলো। কাক বেলুনের
উপর বসলো। বাতাস বেলুনকে স্থির করলো। কাক তার ধারালো
ঠোঁট দিয়ে বেলুনকে ঠোকরাচ্ছে। ধ্রাম! বেলুন বিস্ফোরিত হলো!
এখন বড় লাল বেলু অপু’কে উপরের দিকে টানছে না। অপু দম করে চুটকুর উপর পড়লো।
“বাউ ওয়াউ!” চুটকু চিৎকার করলো। চুটকু বিড়ালে উপর দম করে
পড়লো।
“মিঊ! মিউ!” করে চিৎকার দিলো বিড়াল।
বিড়াল দম করে ইদুরের উপর পড়লো।
“ক্যাঁচক্যাঁচ” ইদুর ক্যাঁচক্যাঁচ করে চিৎকার করলো।
ইদুর মাটির পোকার উপর পড়লো।
“ক্যাঁচক্যাঁচ!” মাটির পোকা ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো।
মাটির পোকা পিপিলিকার উপর দম করে পড়লো।
“আহ! আহ!” করে পিপিলিকা চিৎকার দিয়ে উঠলো।
অপু বাড়ি গেল। তার এখন আর খেলা করার জন্য বেলুন নেই ।চুটকুও তার সাথে বাড়ি গেলো।
বিড়াল চিৎকার দিয়ে দাঁত বের করে ক্রুদ্ধ গর্জন করে বললো ইদুরকে,
“কত বড় সাহস তোর, তুই আমার উপর দম করে পড়লি!”
ইদুর একটি গাছের ছিদ্রে ঢোকে পড়লো।এখন ইদুর দুষ্ট বিড়াল থেকে নিরাপদ! মাটির পোকা মাটির গর্তে ঢোকে পড়লো। সে চায় না যে তাকে কাক এসে খেয়ে ফেলুক। পিপিলিকা হাটছে মাটির উপর।
সে তার খাদ্যের সন্ধান করছে।
অপু’র খুব মন খারাপ। তার খেলার জন্য কোন বেলুন নেই।
তার মা এলো। মা অপু’কে কিছু দিলো, এতে অপু খুশি হয়ে মুচকি হাসলো। মা তাকে একটি বড় নীল বল দিলো।
“বাউ ওয়াউ” চুটকু ডাকছে, সে সুখী। এখন আমরা খেলতে পারবো।
——
অনূদিত গল্প
রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

৮ টি মন্তব্য (লেখকের ৪টি) | ৪ জন মন্তব্যকারী

 

Sample text

Sample Text

Sample Text